উইকেট উদযাপন করেই কেন শাস্তি ও ট্রোলের শিকার দিগভেশ?

ক্রিকেটে নানা রকম উদযাপনের দেখা মেলে, একেক ক্রিকেটারের আনন্দ প্রকাশের ভঙ্গি একেক রকম। ব্যক্তিগত ও দলীয় যেকোনো ছোট-খাটো উদযাপনের বিশেষ ‘স্টাইল’ অনেক সময় খবরের শিরোনাম হতে পারে। তেমনই একটি ‘নোটবুক সেলিব্রেশন’। যা অনেকটা উইকেট পাওয়ার পর হাতের তালুকে কাল্পনিক খাতায় রূপ দিয়ে তাতে কলম দিয়ে লেখার মতো। কিন্তু তেমনই একটি উদযাপনের জন্য আইপিএলে শাস্তি ও ট্রোলের শিকার হতে হচ্ছে এক বোলারকে।
বিজ্ঞাপন
গতকাল (মঙ্গলবার) লখনৌর অটলবিহারি পাজপেয়ি একানা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক লখনৌ সুপার জায়ান্টসের মুখোমুখি হয় পাঞ্জাব কিংস। ম্যাচটিতে পরাজিত লখনৌ’র হয়ে সবচেয়ে ইকোনমিক্যাল বোলিং করেছেন স্পিনার দিগভেশ রাঠি। লেগস্পিনে ৪ ওভারে ৩০ রান খরচায় তিনি ২ উইকেট শিকার করেছেন। তার প্রথম উইকেটটি ছিল প্রিয়াংশ আরিয়ার। পুল করতে গিয়ে টপ-এজ হয়ে ক্যাচ তুলে দেন এই পাঞ্জাবি ওপেনার। এরপরই নিজের ‘নোটবুক সেলিব্রেশন’ করেন দিগভেশ। যার জন্য তাকে জরিমানা করেছে বিসিসিআই।
দিগভেশকে শাস্তি দেওয়া প্রসঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বোলার দিগভেশ রাঠি আইপিএলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে ম্যাচ ফি’র ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি তার নামে যুক্ত হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও।’ দিগভেশ আর্টিকেল ২.৫–এর অধীনে লেভেল ১ অপরাধ স্বীকার করেছেন। অবশ্য ম্যাচ রেফারির আরোপিত শাস্তি মেনে নেওয়া লেভেল ১ লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ও বাধ্যতামূলক। তবে আপাতদৃষ্টিতে নিরীত সেই উদযাপনে ঠিক কী অপরাধ হয়েছে, সেটি স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
— Punjab Kings (@PunjabKingsIPL) April 1, 2025
এর আগে প্রিয়াংশ আউট হয়ে ফেরার সময় তার সামনে গিয়ে কাল্পনিকভাবে নোটবুকে নাম লেখার ভঙ্গি করেন দিগভেশ। যা দেখে আম্পায়াররা তার সঙ্গে গিয়ে কথাও বলেন। অবশ্য এ ধরনের উদযাপন নতুন নয়, ২০১৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার কেসরিক উইলিয়ামস ‘নোটবুক সেলিব্রেশন’ করেছিলেন বিরাট কোহলিকে আউট করার পর। তার মতো করে উদযাপন করা দিগভেশ ম্যাচ হারের পর পাঞ্জাবের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ট্রোলের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া গ্যালারিতেও তার মতো উদযাপন করতে দেখা যায় পাঞ্জাবের সমর্থকদের।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এ ছাড়া পাঞ্জাবের ২৫ বছর বয়সী এই বোলারের সমালোচনা করেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কারও। ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি আগের বলে ব্যাটার ছক্কা বা বাউন্ডারি মারার পর বোলার উইকেট পেয়ে সেলিব্রেশন করে। কিন্তু একজন বোলারের ছয়টি বল থাকে। যদি পাঁচটি ডট বলের পর ষষ্ঠ বলে উইকেট পান, আর তখন আপনি এমন কিছু করেন, সেটা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। এসব ইঙ্গিত করে যে আপনি নিজের উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না, তাই এখন উইকেট পেয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন।’
প্রসঙ্গত, ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করা লখনৌ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭১ রান সংগ্রহ করে। তাদের পক্ষে দারুণ ফর্মে থাকা নিকোলাস পুরান সর্বোচ্চ ৪৪ ও আয়ুশ বাদোনি ৪১ রান করেন। পাঞ্জাবের পেসার আর্শদ্বীপ সিং শিকার করেন ৩ উইকেট। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাঞ্জাবের ওপেনার প্রিয়াংশ দ্রুত আউট হয়ে ফিরলেও, পরবর্তী তিন ব্যাটার তাদের বিপদে পড়তে দেননি। উল্টো আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে টানা দুই ম্যাচেই জয় নিশ্চিত করেছেন দলের। প্রভসিমরান সিং ৬৯, অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার অপরাজিত ৫২ ও নেহাল ওয়াধেরা ৪৩ রান করেছেন।
এএইচএস