বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে দুই স্প্যানিশের ট্যাকটিসের লড়াই

মাঠে খেলেন ফুটবলাররা। ডাগ আউট থেকে খেলা পরিচালনা করেন কোচ। ফুটবলে ফলাফল ও খেলার সৌন্দর্য্য অনেকাংশেই নির্ভর করে কোচের কৌশলের উপর। আগামীকাল বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে দুই দলেরই হেড কোচ স্প্যানিশ। দুই স্প্যানিশের ট্যাকটিসের ওপরই নির্ভর করছে ম্যাচের অনেক কিছু।
বিজ্ঞাপন
ডাগ আউটে দুই স্প্যানিশের লড়াইকে দারুণ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন বাংলাদেশের কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা, 'এটা দারুণ, সত্যিকার অর্থে বলতে।' হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা প্রতিপক্ষ ভারতীয় কোচ মানোলো মার্কেসকে খানিকটা এগিয়ে রাখলেন অভিজ্ঞতার জন্য, 'অবশ্যই ভারতীয় কোচ মানোলো আমার চেয়ে অনেক দীর্ঘ ক্যারিয়ার রয়েছে। তিনি সেখানে সর্বোচ্চ স্তরে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ভারতে একটি সঠিক পথে পরিচালনা করছেন।'
হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা বাংলাদেশের আগে কখনো জাতীয় দলের কোচ ছিলেন না। এমনকি কোনো ক্লাবেরও হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেননি। বাংলাদেশে তিনি সাড়ে তিন বছর কাজ করে বেশ খুশিই, 'জাতীয় দলের কোচ হিসেবে আমি এখানে তিন বছরের বেশি যা বেশ অর্জন। আমার মনে হয় আগামীকাল সবার জন্য একটি খুব উপভোগ্য ম্যাচ হতে চলছে।'
বিজ্ঞাপন
ভারতের কোচ মার্কোস হ্যাভিয়েরের বাংলাদেশ দলের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন, 'বাংলাদেশ একজন কোচের অধীনে অনেক সময় ধরে খেলছে। কোচের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে বেশ ভালো জানা। নভেম্বরে মালদ্বীপের বিপক্ষে যারা খেলেছে এর অনেকেই রয়েছে এই দলে।'
মার্কোস ভারত দল নিয়ে চাপেই ছিলেন। সুনীল ছেত্রী অবসরের পর মার্কোস বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কোনো ম্যাচে ভারতকে জেতাতে পারেননি। ১৯ মার্চ সুনীল ফেরার পর মালদ্বীপকে হারিয়েছে। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মানভীর, ছাংতে, ব্রেন্ডন নেই। অন্য দিকে বাংলাদেশে রয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলা হামজা চৌধুরি। বাংলাদেশকে হারানোর জন্য মার্কোসের উপর বাড়তি চাপ থাকলেও সংবাদ সম্মেলনে খানিকটা কৌশলে এড়িয়েই গেলেন, 'আমাদেরও এগারো জন নামবে, বাংলাদেশেরও এগারো জন। যদি আমরা ভালো খেলি, তাহলে জিতব। ভালো না খেললে আমাদের জয়ের সুযোগ কম।’
বিজ্ঞাপন
হ্যাভিয়ের তিন বছরের বেশি সময় বাংলাদেশে কাজ করছেন। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের ফুটবলে কী পরিবর্তন এনেছেন? ভারতীয় সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, 'প্রথম জিনিস ছিল আমরা যে পদ্ধতির বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলাম তার জন্য সঠিক খেলোয়াড় খুজে বের করা। এটা বিশেষ করে প্রথম থেকে দ্বিতীয় বছরে হয়েছে। আমি বলব খেলোয়াড়দের ৮০% পরির্বতন হয়েছে। আমরা বিনয়ী, কঠোর পরিশ্রমী খেলোয়াড় চেয়েছিলাম, যাদের সেই পরিচয় ছিল যা আমাদের মনে হয় গত তিন বছর ধরে এই দলের পরিচয় দিয়েছে এবং সেই সিনিয়রদের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় বড় পরিবর্তনটা ছিল ২০২৩ সালের সাফে যখন আমরা সেমিফাইনালে পৌঁছেছিলাম এবং কুয়েতের সঙ্গে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নিয়েছিলাম।'
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ক্যাবরেরা বাংলাদেশের কোচের পদে থাকলেও এখনো সিনিয়র পর্যায়ে ভারতের মুখোমুখি হননি। ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসের ম্যাচটি তার জন্য খানিকটা অভিজ্ঞতার, 'এশিয়ান গেমসে আমরা ভারতের বিপক্ষে খেলেছিলাম। সেই ম্যাচে সুনীলও ছিল। আগামীকালের ম্যাচের জন্য সেই ম্যাচ আমার জন্য খানিকটা অভিজ্ঞতার।'
এজেড/এইচজেএস