বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে হারল ওয়ান্ডারার্স, ক্লাবে নেই ব্যানার!

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত ক্রীড়াপ্রেমী। বিশেষ করে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের অনেক ফুটবল ম্যাচ দেখেছেন স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে বসে। ক্লাবটির সঙ্গে বেশ সম্পৃক্ততাও ছিল জাতির জনকের। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪ তম জন্মদিনের দিন ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের ক্লাব প্রাঙ্গনের কোথাও নেই কোনো ব্যানার।
মতিঝিল ক্লাব পাড়ায় অবস্থান ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের। এই ক্লাবটির কয়েক গজ দূরত্বেই দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব। সেখানে দেখা গেল বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে ব্যানার। বাফুফেসহ ক্রীড়াঙ্গনের অনেক সংস্থা, ক্লাব দিনটিকে স্মরণ করেছে। অনেকেই আবার করেনি, তবে বঙ্গবন্ধুর সম্পৃক্ততা থাকা ওয়ান্ডারার্সের দৃশ্যমান কিছু না করাটা বড় দৃষ্টিকটুই।
ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের সাধারণ সম্পাদক কামাল বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'এমন দিনে আমাদের একটি ব্যানার রাখা উচিত ছিল। আসলে আজ খেলা থাকায় নানা কাজের চাপে আর শেষ পর্যন্ত করা হয়নি।' ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে খেলে। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের দিন ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ৩-২ গোলে হেরেছে বাফুফের এলিট একাডেমীর বিপক্ষে। ক্লাবটির অধিনায়ক জাহিদ খুব চেয়েছিলেন আজকের দিনে অন্তত ম্যাচটি জিততে, 'বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে আজ আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলাম ম্যাচটি জিততে। ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত হেরেছি।'

জাহিদ তিন বছর যাবৎ ওয়ান্ডারার্সের অধিনায়ক। এই ক্লাবে এসে জেনেছেন বঙ্গবন্ধুর ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি, 'আসলে আগে বিষয়টি জানতাম না। যখন এই ক্লাবে খেলা শুরু করি তখনই জানি বঙ্গবন্ধু এই ক্লাবের অনেক বড় সমর্থক ছিলেন। ফুটবল দলের সঙ্গে নানা ভূমিকাতেও ছিলেন এমনটাও শুনেছি। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত ক্লাবে আমি এখন অধিনায়কত্ব করি বিষয়টি আমার কাছে দারুণ অনুভূতির।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ওয়ান্ডারার্সের এখন সেই দাপট নেই। ১৯৩৭ সালে পুরান ঢাকায় ক্লাবটির জন্ম। পঞ্চাশ-ষাটের দশকে ফুটবলে জনপ্রিয় এবং সফল ক্লাব ছিল ওয়ান্ডারার্স। ঢাকা লিগে প্রথম হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের রেকর্ড ওয়ান্ডারার্সের। ১৯৫৩-৫৬ সাল পর্যন্ত তারা টানা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে ওয়ান্ডারার্সের প্রতিপক্ষ ছিল মোহামেডান, ভিক্টোরিয়া। সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে মোহামেডানের প্রতিক্ষ হয় আবাহনী। আশি-নব্বই দশক পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই দ্বৈরথে বিভক্ত ছিল পুরো দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা।

আশির দশকের পর থেকেই ওয়ান্ডারার্সের মাঠের ধার কমতে থাকে। ফুটবল-ক্রিকেট মাঠের লড়াইয়ে ওয়ান্ডারার্স পিছিয়ে পড়লেও ক্লাবটির গায়ে সবচেয়ে বড় কলঙ্ক ‘ক্যাসিনো কান্ড’। অসাধু ব্যক্তিবর্গের কারণে ক্লাব পাড়ার আরো কয়েকটি (ভিক্টোরিয়া, দিলকুশা, আরামবাগ ও মোহামেডানের একাংশ) ক্লাবের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ওয়ান্ডারার্সেও হয়েছে আইন বিরোধী এই কাজ। ক্যাসিনো কান্ডের পর ক্লাবটি সিলগালা ছিল ২০১৯-২৩ পর্যন্ত। সাবেক তারকা ফুটবলার আব্দুল গাফফারের উদ্যোগে গত বছর ১ সেপ্টেম্বর বন্ধ ক্লাবগুলোর তালা খুলেছে।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ক্লাবের কাগজপত্র, ট্রফি, আসবাবপত্র সব হারিয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর কোনো স্মৃতিই নেই এখন ক্লাবে। চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের খেলা উপলক্ষ্যে ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় কয়েকটি রুম সংস্কার করে সম্প্রতি ফুটবলারদের উঠানো হয়েছে। ফুটবলাররা একাংশে থাকলেও ক্লাবের আরেক প্রান্তের কয়েকটি কক্ষে রয়েছেন পুলিশ। এতে খানিকটা বিব্রত অবস্থানে ক্লাবটি। সাধারণ সম্পাদক এই প্রসঙ্গে বলেন, 'আমাদের এমনিতেই নানা সংকট। এর মধ্যেও অনেক কষ্ট করে ফুটবলারদের রাখছি। এর মধ্যে কয়েকজন পুলিশও ক্লাবে থাকায় আমাদের আবাসন সমস্যা হচ্ছে। মতিঝিল থানায় চিঠিও দিয়েছে এ নিয়ে। এখনও এর কোনো প্রতিকার পাইনি।'
এজেড/এইচজেএস