ইতিকাফকারী মসজিদের ছাদে যেতে পারবেন?

আরবি ইতিকাফ শব্দের অর্থ অবস্থান করা, আবদ্ধ করা, আবদ্ধ হওয়া বা আবদ্ধ রাখা। সাংসারিক প্রয়োজন, দুনিয়াবি মোহ-মায়া ও ব্যস্ততা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধ্যান করাকে ইতিকাফ বলে।
বিজ্ঞাপন
শরীয়তের পরিভাষায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতসহকারে নিয়মিত আদায় করা হয় এমন মসজিদগুলোতে আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নিয়তসহকারে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। ইতিকাফরত বান্দা, আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় দুনিয়াবি সকল চাহিদা থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেয়। ইতিকাফের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ করেছেন, সাহাবিরাও করেছেন। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, ইন্তেকাল পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন, এবং তাঁর স্ত্রীরাও ইতিকাফ করেছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ১,৮৬৮; মুসলিম, হাদিস : ২,০০৬)
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি কদরের রাতের সন্ধানে প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। এরপর ইতিকাফ করলাম মধ্যবর্তী ১০ দিন। এরপর অহির মাধ্যমে আমাকে জানানো হলো যে তা শেষ ১০ দিনে। সুতরাং তোমাদের যে ইতিকাফ পছন্দ করবে, সে যেন ইতিকাফ করে।’ এরপর মানুষ তাঁর সঙ্গে ইতিকাফে শরিক হয়। (মুসলিম)
বিজ্ঞাপন
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ দশদিন ইতিকাফ করবে, তাকে দুটি হজ ও দুটি ওমরা পালন করার সওয়াব দান করা হবে। (শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ৩৬৮০)
ইতিকাফের সময় ইতিকাফকারী ব্যক্তির জন্য মসজিদের বাইরে যাওয়ার নিয়ম নেই। মসজিদের বাইরে গেলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যায়। কোনো ব্যক্তি ইতিকাফ করার সময় তাকে মসজিদের সীমানার মধ্যেই অবস্থান করতে হয়। কেউ ইতিকাফরত মসজিদের ছাদের ওপর যেতে চাইলে তার জন্য নিয়ম হলো—
যদি উপরে (ছাদে) যাবার সিড়ি মসজিদের বাইরে না হয়, বরং ভিতরে হয়, তাহলে যেতে পারবে। কিন্তু যদি উপরে (ছাদে) যাবার সিড়ি মসজিদের বাইরে হয়,তাহলে যেতে পারবে না। বাইরে গিয়ে মসজিদের উপরে (ছাদে) উঠলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। (আল বাহরুর রায়েক, ২/৫২৯)