ঈদে চিড়িয়াখানায় মানুষের ঢল

ঈদের দিন উৎসব-আনন্দ উপভোগ করতে মানুষের ঢল নেমেছে জাতীয় চিড়িয়াখানায়। বিভিন্ন গাছের ছায়াঘেরা চিড়িয়াখানায় প্রাণীদের সংস্পর্শে শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই যেন সুন্দর সময় পার করছেন। ঈদ উপলক্ষ্যে বিশেষ ব্যবস্থাও নিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩১ মার্চ) বিকেলে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা যায়, হাজার হাজার মানুষ এসেছেন পরিবার নিয়ে। টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে চিড়িয়াখানার সর্বত্র শুধু মানুষ আর মানুষ। চিড়িয়াখানায় এসে পরিবারের ছোট সদস্যরা হয়েছে বেশি উচ্ছ্বসিত। বইয়ের পাতায় থাকা প্রাণীগুলোকে জীবন্ত দেখছে এখানে।
আরও দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষ্যে চিড়িয়াখানা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ আগেই শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ। গাছের গোঁড়ায় করা হয়েছে রং, বসানো হয়েছে নতুন দিকনির্দেশক ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও।
বিজ্ঞাপন
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এখানে এবার অন্যতম আকর্ষণ জেব্রা ও বাঘের শাবক। তিনটি জেব্রা শাবক ও ১১ মাস বয়সী বাঘের শাবক ‘শাপলা’ ও ‘পদ্ম’ দেখার সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা। তবে থাকছে না কোনো পশুর খেলা। গত বছর হাতির খেলা দেখানোর সময় এক কিশোর প্রাণ হারায়। তাই এবার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে হাতির খেলাসহ সব খেলা বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বের হওয়ার সময় চিড়িয়াখানার দর্শনার্থী অর্ণব খান খোকন বলেন, পরিবারের ছোট-বড় ৫ সদস্য নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলাম। মানুষের অনেক ভিড় ছিল। তারপরও ছোটরা বেশ উপভোগ করেছে। ওরা বাঘ দেখে বাঘ বাঘ বলে চিল্লিয়ে আনন্দ করেছে। ওরা তো এসব শুধু বই আর টিভিতে দেখেছে।
আরও পড়ুন
আরেক দর্শনার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, ঢাকায় এখন তেমন কোনো বড় জায়গা নেই যেখানে পরিবার নিয়ে যাওয়া যায়। চিড়িয়াখানাই একমাত্র ভরসা। মানুষের ভিড় থাকলেও গাছপালা আর প্রাণীদের সঙ্গে ভালো সময় কাটে।
তিনি আরও বলেন, আমার ছোট ছেলেটা বেশ আনন্দ করেছে আজ। প্রাণীগুলোকে সামনে থেকে দেখে শুধু কাছে আসার জন্য ডাকাডাকি করেছে। ওর উচ্ছ্বাস দেখে বেশ ভালো লেগেছে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আমরা ধারণা করেছি আজ এক লাখ মানুষ চিড়িয়াখানা ভ্রমণে আসতে পারেন। সকালের দিকে মানুষ কম ছিল। দুপুরের পর মানুষ বেড়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। পুলিশ তৎপর রয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে সেই প্রত্যাশা করছি। আসলে চিড়িয়াখানার মূল ফটকের সামনে অনেক হকার বসে। ফলে মানুষে যাতায়াতে অসুবিধা হয়। আমরা ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি সমাধান করতে।
/এমএইচএন/এমএ