ফাঁকা ঢাকায় বিকেলে নামতে পারে মানুষের ঢল

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ, আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সারা দেশে মুসলমানরা পালন করছেন বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদে এবার লম্বা ছুটি মিলেছে নগরবাসীর।
বিজ্ঞাপন
পরিবার পরিজনের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটাতে গত কয়েকদিনে ঢাকা ছেড়েছেন প্রায় অর্ধকোটি মানু্ষ। যার মধ্যে ঈদের আগের দুই দিনে ৪১ লাখ মানুষ রাজধানী ঢাকা ছেড়েছেন। ফলে ঢাকার শহর অনেকটাই ফাঁকা। তবে ফাঁকা ঢাকা হলেও যারা কাজ বা নানান কারণে এবার ঢাকায় ঈদ করছেন তারা ঈদের নামাজের পর থেকে নিজ বাসাতে অবস্থান করছেন। ধারণা করা হচ্ছে বিকেলে এসব মানুষের ঢল নামবে ঢাকার অলি, গলি সড়ক, বিনোদন কেন্দ্রের দিকে।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা পবিত্র রমজানে পুরো এক মাস রোজা পালন শেষে আজ জামাতে ঈদের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে শুরু করেছেন ঈদ। ধনী-গরিব এক কাতারে দাঁড়ানো, একই আনন্দে ভেসে সাম্যের নিদর্শন স্থাপনের নামই ঈদ, আর এভাবেই ঈদুল ফিতর পালিত হচ্ছে পুরো দেশজুড়েই।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
পবিত্র ঈদুল ফিতরের উৎসব ঘিরে মুমিন হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়েছে আনন্দের ঢেউ। কারণ ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি ভাগাভাগি করা। ঈদ মানে আত্মত্যাগের মহিমায় নিজেকে শানিত করা। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে এসেছে এই ঈদুল ফিতর। রমজান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের সুসংবাদ নিয়ে আসে। মুসলমানরা সিয়াম সাধনার মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ এবং পরকালের জীবনকে সমৃদ্ধ করেন। পার্থিব জীবনে মুসলমানদের জন্য এটা অনেক বড় আনন্দের বিষয়। আরও আনন্দের বিষয় হচ্ছে মাহে রমজান শেষে খুশির ঈদ। কারণ এই ঈদে ফিতরা দিয়ে গরিবের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। ঈদ ধনী-গরিবের মধ্যে একটা সুসম্পর্ক সৃষ্টি করে। ঈদ ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি মূলত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অনুষ্ঠান।
বিজ্ঞাপন
তবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে ঈদ জামাত শেষে ঈদ আনন্দ মিছিল হয়, মিছিলের সামনে শাহী ঘোড়া ও সামনে-পেছনে ২০টির মতো ঘোড়ার গাড়ি ছিল। ব্যান্ড পার্টি সুলতানি-মোঘল আমলের ইতিহাস সম্বলিত চিত্রকলাও ছিল। নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই ঈদ আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। যদিও ওইদিকে সকাল থেকেই ছিল মানুষের ঢল। এর মাধ্যমে ঢাকার ৪০০ বছরের ঈদ ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনাতে চেয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।
অন্যদিকে ঢাকার বাকি অংশে বিকেলে থেকে পরিবার পরিজন নিয়ে ঢল নামতে যাচ্ছে। তবে বেলা ১১টার পর থেকে ৩টা পর্যন্ত ঢাকা শহরের বেশিরভাগ সড়ক, অলিগলি ফাঁকা দেখা গেছে। প্রধান সড়কগুলোতে অল্প কিছু সংখ্যক বাস চলাচল করছে, যেখানে যাত্রী সংখ্যাও কম। তবে সড়ক অলিগলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, সিএনজি। এসবের ভাড়াও অন্যান্য দিনের তুলনায় বাড়তি আদায় করছে।
অল্প সংখ্যক যাত্রী নিয়ে সাভার, গাবতলী, শ্যামলী, মহাখালী হয়ে বাড্ডার দিকে আসা বৈশাখী পরিবহনের চালক ইদ্রিস আলী বলেন, বলতে গেলে বেলা ১১টার পর থেকে, বাসে যাত্রী খুব একটা নেই। রাস্তা ঘাটো অনেকটা ফাঁকা। তবে বিকেল থেকে প্রচুর পরিমাণে যাত্রী পাবো, সড়কগুলোতে মানুষের ভিড় থাকবে ও অনেক।
এদিকে ফার্মগেট এলাকায় যাত্রীর জন্য অপেক্ষায় থাকা সিএনজিচালক লিয়াকত আলী বলেন, সকালে নামাজের আগে পরে পর্যন্ত যাত্রী ছিল, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত তেমন যাত্রীর দেখা নেই, সড়কে মানুষজনেরও ভিড় নেই। তবে বিকেল থেকে হয়তো বা প্রচুর পরিমাণে মানুষ ঘুরতে বের হবে, তখন অনেক যাত্রী পাওয়া যাবে আশা করা যায়। আজকে বছরের ঈদের দিন তাই একটু বকশিশ হিসেবে ভাড়া বেশি চাওয়া হচ্ছে, মানুষও খুশি হয়ে বেশি ভাড়ায় দিচ্ছে।
রাজধানীর হাতিরঝিল অংশে বাচ্চাদের খেলনা বিক্রির পসরা সাজিয়ে বসেছেন মকবুল হোসেন। তিনি বলেন, এখনো মানুষ আসতে শুরু করে নাই, বিকেল থেকে মানুষের ঢল নামবে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। তখনই মূলত ভালোভাবে ব্যবসা হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জমজমাট থাকবে পুরো হাতিরঝিল এলাকা।
ঈদের দুপুরে প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে বাইরে বের হয়েছেন ঢাকায় পরিবারসহ ঈদ করা বেসরকারি চাকরিজীবী আবির ফেরদৌস। আলাপকালে তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে ঢাকার মানুষ এখনো ঈদের আনন্দ উদযাপনে বাইরে বের হয়নি। তবে বিকেল থেকে ঢাকার প্রতিটি অলিগলি, সড়ক, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নামবে। আমরা নিজেরাও পরিবারসহ বের হবো, ঘুরবো বিভিন্ন এলাকায়। বাচ্চাদের নিয়ে বিনোদন কেন্দ্রে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এএসএস/এমএ