পুলিশের নিয়োগ-পদোন্নতি-পদায়নে কমিশনের যত সুপারিশ

পুলিশ সার্ভিসের পুলিশ সুপার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য ফিট লিস্ট প্রস্তুত করে নিয়মিত বিরতিতে হালনাগাদ করে পদায়নসহ ছয়টি সুপারিশ করেছে কমিশন৷ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করেছে পুলিশ সংস্কার কমিশন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে ৬টি সংস্কার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদেন প্রকাশ করা হয়।
কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎকর্ষ ও সফলতা সাধন নিশ্চিতকরণে প্রয়োজন উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সদস্যদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর সুষ্ঠু কর্মপরিকল্পনা। কেননা কর্মস্থলে গতিশীলতা আনতে নতুন নিয়োগের পাশাপাশি পদোন্নতি ও পদায়নসহ প্রশিক্ষণের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশের সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতি ও পদায়নসহ প্রশিক্ষণের বিষয়টিকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ ভাবা হয় না। পদোন্নতি বা উপযুক্ত স্থানে পদায়ন না হলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা যায়, যার নেতিবাচক প্রভাব সামগ্রিক কাজের ওপর পড়ে। কখনো কখনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অনিয়মিত পদোন্নতি ও যোগ্য কর্মীকে অযোগ্য স্থানে পদায়নের কারণে অধিক মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন নতুন কর্মীদের উক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পেতে নিরুৎসাহিত করে থাকে। সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশ পুলিশের সুষ্ঠু ক্যারিয়ার প্ল্যানিং করা হলে তা সব স্তরের পুলিশ সদস্যদের মনোবল ও কর্মস্পৃহা বহুগুণে বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি জনসম্পদ ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন ঘটবে যা সার্বিকভাবে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বিজ্ঞাপন
সুপারিশে আরও বলা হয়েছে, তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে বিশ্বজুড়ে পুলিশিং ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ পুলিশেও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ লক্ষ্যে বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য পুলিশিং ব্যবস্থায় পরিবর্তন অতীব জরুরি। তাই পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মজীবনে প্রত্যাশিত সমৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সংস্কার অতীব জরুরি।
সুপারিশের উদ্দেশ্য বলা হয়েছে, একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা অনুযায়ী পুলিশিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পুলিশের সেবা প্রদান করাই মুখ্য উদ্দেশ্য। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের মনোবল ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিপূর্বক বাংলাদেশ পুলিশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সমসাময়িক বিরাজমান অপরাধের ধরন অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম-এরূপ সর্বত গ্রহণযোগ্য পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সার্বিকভাবে বাংলাদেশ পুলিশকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমানে সহকারী পুলিশ সুপার নিয়োগের ক্ষেত্রে যে ধরনের শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতার প্রয়োজন, তা উপেক্ষিত হচ্ছে। এজন্য বর্তমান বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগের জন্য আলাদাভাবে শারীরিক যোগ্যতা [(উচ্চতা ও ওজন ইত্যাদি পরিমাপ, ফিজিক্যাল এনডিউরেন্স টেস্ট (পিইটি), মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ইত্যাদি)] অন্তর্ভুক্ত করে আবেদনের যোগ্যতা নিরূপণ করা যায়। এতে, আগ্রহী এবং যোগ্য প্রার্থীরা পুলিশ ক্যাডারে আবেদন করার জন্য সহজে বিবেচিত হতে পারবেন। এক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (এনফোর্সমেন্ট: পুলিশ) রচনা ও ক্যাডার বিধিমালা ১৯৮০’ সহ সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের সুপারিশ করা হলো।
১. পুলিশ সার্ভিসের পুলিশ সুপার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য ফিট লিস্ট প্রস্তুত করে নিয়মিত বিরতিতে হালনাগাদ করতে হবে। হালনাগাদকৃত তালিকা থেকে পুলিশ সুপার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদায়ন করবেন।
২. বিশেষায়িত পুলিশ যথা (সিআইডি, সাইবার অপরাধ, বায়োমেট্রিক আইডেনটিফিকেশন ফিঙ্গারপ্রিন্ট ইত্যাদি) স্ব স্ব বিভাগের ভেতরে সংশ্লিষ্ট পদে পদায়ন করতে হবে।
৩. সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পুলিশ বিভাগে সুপারিশকৃত বা আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু করা যেতে পারে।
৪. কনস্টেবল থেকে এএসআই এবং এএসআই থেকে এসআই পদোন্নতিতে প্রতি বছর পরীক্ষা ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার রীতি বাতিল করে ০১ বার উত্তীর্ণ হলে তাকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য তাকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
৫. বিভাগীয় পদোন্নতির নীতিমালা সংস্কার করে কনস্টেবল/এসআই নিয়োগ স্তর থেকে একটি ক্যারিয়ার প্ল্যানিং প্রণয়ন করা প্রয়োজন। যাতে সদস্যদের মধ্যে পেশাদারিত্ব উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উৎসাহ/উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
এমএম/এমএন