মামলা দিয়েও থামানো যায়নি পুরানা পল্টনের জিওয়াই ট্রেডকে

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের ঘোষণা দিয়ে অন্যান্য পণ্য আনা চারটি কনটেইনার জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। পরে এসব কনটেইনার থেকে বিপুল পরিমাণ ডেক্সট্রোজ, গুঁড়া দুধ, কফি মেট ও মেনথল জব্দ করা হয়। এভাবে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য এনে প্রায় দেড় কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানান কাস্টমস কর্মকর্তারা।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে কাস্টমস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রটি জানায়, রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকার জিওয়াই ট্রেড প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি চীন থেকে ৪ কনটেইনার ক্যালসিয়াম কার্বনেট আমদানির ঘোষণা দেয়। এমভি স্কাই উইন্ড নামে একটি জাহাজে করে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। চালানটিতে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির বিষয়ে আগে থেকে তথ্য পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ কারণে চালানটির বিষয়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে চালাকি করে চালানটি বন্দরে না নামিয়ে সিঙ্গাপুর পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
বিজ্ঞাপন
কিন্তু কাস্টমস কর্মকর্তারা চালানে থাকা চারটি কনটেইনার জাহাজ ছাড়ার আগে নামাতে শিপিং এজেন্টকে বাধ্য করেন। এরপর গত বুধবার (১৮ অক্টোবর) চারটি কনটেইনার শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়। কনটেইনারগুলোর ভেতরে থাকা প্রতিটি বস্তায় ক্যালসিয়াম কার্বনেট লেখা ছিল। তবে প্রতিটি বস্তা কেটে প্রায় ৬০ টন ডেক্সট্রোজ, ১৫ টন গুঁড়া দুধ, ১ টন কফি মেট, ৩ টন মেনথল ও ৩ টন ক্যালসিয়াম কার্বনেট পাওয়া যায়।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের ডেপুটি কমিশনার (এআইআর) মো. সাইফুল হক বলেন, একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি চালান গত ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে আটক করা হয়েছিল। ওই সময় চারটি কনটেইনারে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের ঘোষণায় ডেক্সট্রোজ-গুঁড়া দুধ আনা হয়েছিল। চালানটি আটকের পর অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সবশেষ ঘটনায় আবারও মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
এমআর/কেএ