ঢাকা-১৭ : অবহেলা মেনে নেবে না নির্বাচন কমিশন

#সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে টিমওয়ার্ক লাগবে : আহসান
#ভোটার উপস্থিতি যাই হোক, সুষ্ঠু ভোটে নজর ইসি আনিছুরের
#আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একক দায়িত্ব চান ডিএমপি কমিশনার
বিজ্ঞাপন
ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ জুলাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে এই আসনের উপনির্বাচনও ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এই নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক ধরনের ‘প্রস্তুতি’ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
তাই এ উপনির্বাচনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন। এখানে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলা বা নিরাপত্তা ব্যর্থতা কমিশন মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, এই উপনির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুুলিশ (ডিএমপি) যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। ইসির কাছে একক দায়িত্ব চেয়েছেন তিনি।
গত ৪ জুলাই ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার শূন্য আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে সিইসির সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. জাহাংগীর আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
স্বাগত বক্তব্যে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেন, ঢাকা-১৭ শূন্য আসনে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চলছে। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয় সেজন্য সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান সচিব।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব ফরহাদ আহম্মদ খান ঢাকা-১৭ শূন্য আসনে নির্বাচনের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত খসড়া কর্মপরিকল্পনা, যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধকরণ, ভোটকেন্দ্রে মালামাল পৌঁছানো, নির্বাচনী প্রচারণার নিষেধাজ্ঞা আরোপ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপালন সংক্রান্ত নির্দেশনা, যান চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডের সমন্বয়সাধন ও সুসংহতকরণ সম্বলিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন।
উপনির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. মুনীর হোসাইন খান বলেন, এ নির্বাচনী এলাকায় যেমন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কূটনৈতিক এলাকা আছে, তেমনি বস্তি এলাকাও রয়েছে। প্রচারণা যেন নির্ধারিত নিয়মে হয়, সেজন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের সজাগ দৃষ্টি রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অস্ত্রসহ প্রবেশের আগে থেকেই অনুমোদন নেয়ার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন। নির্বাচনের দিন ভোরে বনানী বিদ্যানিকেতন থেকে ব্যালট পেপার ভোটকেন্দ্রে সরবরাহ করা হবে বিধায় ওই এলাকায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান রিটার্নিং অফিসার। তাছাড়া নির্বাচনের দিন কোন প্রকারের যানবাহন চলবে, কোনটি চলবে না তা সুনির্দিষ্ট করার প্রস্তাব করেন তিনি।
সভায় ডিজিএফআইয়ের প্রতিনিধি বলেন, বস্তি এলাকার যারা ভোটার, তাদের কর্মস্থলও একই এলাকায়। তাই ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ওই এলাকায় সাধারণ ছুটির প্রস্তাব করেন। নির্বাচনের দিনের কার্যক্রমকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে হবে, কারণ ওই দিনের ঘটনা মানুষ বেশি মনে রাখে ও গুজব প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটার উপস্থিতি বাড়লে কমিশন উজ্জীবিত বোধ করে। বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে কার্যক্রমটা আইন অনুযায়ী হতে হবে। সবার সম্মিলিত সহায়তায় আসন্ন ঢাকা-১৭ শূন্য আসনের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পুলিশের গুলশান জোনের ডিসি মো. শহিদুল্লাহ বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক আছে। নির্বাচনের দিন ভোটারের নিরাপত্তাসহ ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ গুলশান জোন কাজ করে যাচ্ছে। বস্তি এলাকায় নিম্ন আয়ের ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহ প্রদানের কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তাব করেন তিনি।
পুলিশের মিরপুর জোনের এসি বলেন, মিরপুরের নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। মিরপুরের বস্তি এলাকায় প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন আলমের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনী অপরাধ দমনে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ করেন তিনি।
ঢাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকায় পাঁচ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা ১৬ জুন থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা পরিলক্ষিত হয়নি। নির্বাচনের আগে আরও ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য সমন্বয় সেল খোলা হবে।
আনসার ও ভিডিপির প্রতিনিধি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনী কাজে সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আনসার মোতায়েন করা হবে।
বিজিবির প্রতিনিধি বলেন, ভাষানটেক এলাকাসহ বেশ কিছু এলাকা চিহ্নিত করা আছে। ৫ ওয়ার্ডে পাঁচটি মোবাইল টিম মোতায়েন করা হবে এবং একটি রিজার্ভ থাকবে।
এনএসআই প্রতিনিধি বলেন, কূটনৈতিক এলাকা হওয়ায় এটিকে একটি স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। বস্তি এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রমের ঘটনা ঘটতে পারে।
এসবির অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক জানান, ঢাকা-১৭ শূন্য আসনে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হবে বলে ধারণা করা হয়েছে। একজন প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন আলম ইউটিউবে গুজব ছড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন।
পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম বলেন, ঢাকা-১৭ নির্বাচনটি ঢাকা মেট্রোপলিটনের এলাকাভুক্ত। তবে সীমান্ত এলাকায়ও সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অর্গানাইজড ওয়েতে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়ে থাকে। কোনো প্রার্থী পরাজিত হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। এ ধরনের প্রোপাগান্ডা রোধে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।
পুলিশের প্রধান কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়ে থাকে। নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স আনসার ও পুলিশের সমন্বয়ে করার জন্য পরিপত্র জারি করা হয়ে থাকে। এটি শুধু পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে করলে ভালো হয় অথবা নিরাপত্তা পরিকল্পনা যেন একাদশ জাতীয় সংসদের ন্যায় করা হয়ে থাকে।
ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-১৭ শূন্য আসনের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সমস্যা ভোটার উপস্থিতি। ভোটার উপস্থিতি কম হলে কমিশনকে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বিপিএম (বার) পিপিএম বলেন, ঢাকা-১৭ শূন্য আসনের নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশই যথেষ্ট। অন্যান্য বাহিনী থাকলে এটি আরও সহায়ক হবে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ব্যত্যয় ঘটলে শুধু পুলিশকেই দায়ী করা হয়ে থাকে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে একক নেতৃত্ব দেওয়া যেতে পারে। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নির্বাচনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের অস্ত্র বহনের বিষয়ে অনুমতি নিয়ে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে অর্থ বরাদ্দ প্রদান করা হলে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের খাবারের জন্য ভোটকেন্দ্রের বাইরে যেতে হয় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা দরকার। পুলিশ যেন ভোটকেন্দ্র সার্বক্ষণিক অবস্থান করে তার ব্যবস্থা করা হবে। গুজব প্রতিরোধে পুলিশ তৎপর থাকবে। ঢাকা-১৭ শূন্য আসনের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) মো. খায়রুল আলম সেখ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে নিরাপত্তা পরিকল্পনাসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পরিপত্র জারি করা হবে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমন্বয় ও মনিটরিং সেল খোলা হবে। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের অস্ত্রসহ প্রবেশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে নির্দেশনা প্রেরণের প্রস্তাব করেন তিনি।
মো. খায়রুল আলম সেখ বলেন, নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হলে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন না হলেও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ইউটিউবে যদি প্রোপাগান্ডা হয় তা প্রতিরোধে পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।
এনআইডি মহাপরিচালক একেএম হুমায়ুন কবীর বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটের দিন যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে পত্র দেওয়া যেতে পারে। যাতায়াত অবাধ করতে সড়কের মোড়গুলোতে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত যানগুলো যাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে না থাকে সেজন্য ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, এই নির্বাচনটি কূটনৈতিক এলাকার আওতাভুক্ত এবং ছয় মাস পরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের প্রভাব আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পড়তে পারে। ভোটার উপস্থিতি যাই হোক, নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর দায়িত্ব প্রার্থীদের। ব্যালটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকা-১৭ শূন্য আসনের নির্বাচনের পাশাপাশি ১৭ জুলাই স্থানীয় সরকার পরিষদের বেশ কিছু নির্বাচন আছে, সে বিষয়ে কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। ওই নির্বাচনগুলোর তথ্যও সংশ্লিষ্টরা অবগত করতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব.) বলেন, বর্তমান কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শতভাগ সহায়তা পাওয়া গেছে বিধায় নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনেও আশা করি শতভাগ সহায়তা পাওয়া যাবে। টিমওয়ার্কের মাধ্যমে নির্বাচন যেন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নিজেদের সেরাটা দিয়ে সাফল্য নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ঢাকা-১৭ শূন্য আসনে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্নের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা কামনা করেন। তিনি বলেন, ইতঃপূর্বে এসব সংস্থা নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করে এসেছে। যার কারণে কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পেরেছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বয়ের মাধ্যমে ঢাকা-১৭ শূন্য আসনের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা যাবে বলে আশা করছি। সব প্রার্থীর প্রতি সমান আচরণ করার জন্যও তিনি নির্দেশনা দেন।
সিইসি বলেন, যেকোনো ছোট ঘটনা থেকেও বড় কিছু হয়ে যেতে পারে, সেজন্য সব বিষয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখতে হবে। মিডিয়া এ পর্যন্ত পজিটিভ রোল প্লে করে আসছে। নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সবার কার্যকরী সহায়তা ছাড়া নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারে না। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা ব্যর্থতা কমিশন মেনে নেবে না। পক্ষপাতহীন, সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে
(ক) চেকপোস্ট স্থাপন : নির্বাচনী এলাকার প্রবেশপথে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেকপোস্ট বসাতে হবে। নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত চেকপোস্টগুলো সার্বক্ষণিকভাবে চালু থাকবে।
(খ) মহিলা, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও হিজড়া ভোটাররা যাতে নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো প্রয়োজনীয় আইনানুগ সহায়তা প্রদান করবে।
(গ) ভোটকেন্দ্রে মালামাল পৌঁছানো : ভোটগ্রহণের আগের দিন মালামাল বিতরণ কেন্দ্র থেকে নিরাপত্তা সহকারে ও সুশৃঙ্খলভাবে ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী দ্রব্যাদি পৌঁছানোর বিষয়ে নির্বাচনী এলাকায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ওই সময় এবং ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত কর্মকর্তা/ব্যক্তিদের যাতায়াতের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মহাসড়কে যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ সার্বিক সহায়তা ও নিরাপত্তা প্রদান নিশ্চিত করবেন।
(ঘ) ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপালন সংক্রান্ত নির্দেশনা : এই নির্বাচনে ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ৩০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের আগের দিন ও ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচনী সামগ্রীসহ ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী (অস্ত্রসহ) সেনানিবাসের আওতাধীন এলাকায় স্থাপিত নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত করবেন এবং ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করবেন। সেই সঙ্গে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যদেরকেও ওই দিনগুলোতে সেনানিবাস এলাকায় যাতায়াতের প্রয়োজন হবে বিধায় নির্বাচনী কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতার জন্য কমিশন সচিবালয় থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে পত্র প্রদান করতে হবে।
(ঙ) নির্বাচনি প্রচারণার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এ অনুচ্ছেদ ৭৮ অনুসারে ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ১৫ জুলাই সকাল ৯টা থেকে ১৯ জুলাই বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো ধরনের সভা সমাবেশ ও মিছিল, শোভাযাত্রা করা যাবে না। এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এসআর/এসএসএইচ/