ভারতীয় বিমান ধ্বংস ও পাইলট আটকের সেই ঘটনা উদযাপন করছে পাকিস্তান

‘অপারেশন সুইফ্ট রিটর্ট’-এর ষষ্ঠ বার্ষিকী উদযাপন করছে পাকিস্তান। ছয় বছর আগে ২০১৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আজাদ জম্মু ও কাশ্মিরের ওপর ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করার পর সেটির পাইলটকেও আটক করেছিল পাকিস্তানি সেনারা।
বিজ্ঞাপন
মূলত পাল্টা হামলা চালিয়ে ভারতীয় যুদ্ধবিমানকে গুলি করে ভূপাতিত ও পাইলটকে বন্দি করার পর এটিকে ভারতের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিজয় চিহ্নিত করে দিবসটি উদযাপন করছে পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল এবং জিও নিউজ।
বিজ্ঞাপন
সংবাদমাধ্যম বলছে, ভারতের “বালাকোট স্ট্রাইক”-এর জবাবে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পাল্টা হামলা পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছিল। মূলত ভারতীয় সামরিক বিমান পাকিস্তানশাসিত আজাদ কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদ সেক্টরের কাছে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) লঙ্ঘন করার পরই এই সংঘাত হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতশাসিত কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৪২ জন জওয়ান নিহত হন। ভারত এই ঘটনায় পাকিস্তানভিত্তিক সংগঠনকে দায়ী করে। পুলওয়ামা হামলার জবাব দিতেই পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলায় অন্তত ৩০০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান জানায়, হামলায় কিছু গাছের ক্ষতি হওয়া ছাড়া কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
মূলত পুলওয়ামায় হামলার ১২ দিনের মাথায় মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে আকাশপথে পাকিস্তানের বালাকোটে হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। এরপর আকাশপথে ভারতকে আক্রমণ করে পাকিস্তান। ভারতীয় যুদ্ধবিমানকে ধাওয়া করে পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমান সেটি গুলি করে ভূপাতিত করে এবং ভারতীয় বিমানটির পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে বন্দি করে।
ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করা দুই পাইলট ছিলেন উইং কমান্ডার নোমান আলী খান এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান। এর মধ্যে উইং কমান্ডার নোমান আলী খানকে সিতারা-ই-জুরাত (বীরত্বের তারকা) এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন ফাহিম আহমেদ খান ও স্কয়ার লেডার হাসান মাহমুদ সিদ্দিকীকে তমঘা-ই-জুরাত (বীরত্বের পদক) প্রদান করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন
এদিকে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর অটল সাহস, পেশাদারিত্ব এবং ত্যাগের প্রতি উজ্জ্বল শ্রদ্ধা নিবেদন করে পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির (সিজেসিএসসি) চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা এবং তিন বাহিনীর প্রধান আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য তাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং ইন্টার-সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে বলেছে, “দৃঢ় সংকল্পের সাথে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অবদান রেখে মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।”
টিএম