খল অভিনেতা জাম্বুকে মনে পড়ে?

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা জাম্বু। ছোট বড় সবার কাছেই তার নামটি বহুল পরিচিত। জন্ম ১৯৪৪ সালে। মূল নাম সুখলাল বাবু। জন্ম ও পৈতৃক স্থান পুরান ঢাকার হাজারিবাগের গণকটুলি সিটি কলোনিতে। মেথরপট্টি হলেও আজিমপুরের ভাটা মসজিদের পাশেই চারতলা বাড়িতে থাকতেন তিনি। বাবুল গোমেজ নামে এন্ট্রি হন প্রথমে এফডিসিতে। পরে পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু তার নাম দেন জাম্বু।
বিজ্ঞাপন
সাদাকালো সময় থেকে শুরু করে রঙিন পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে বহু সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। এই খল অভিনেতার লুক ছিল রুদ্রমূর্তির মতো। যা ভয় পাইয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ভয়েসেও ছিল সেই রুদ্রতা। সবচেয়ে বেশি তাকে দেখা যেত বস্তি আক্রমণ, সওদা করে খুন, মূল খলনায়কের সহকারী প্রভৃতি ভূমিকায়। পর্দায় তার রসায়ন সবচেয়ে বেশি জমত নায়ক জসিমের সঙ্গে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এরমধ্যে ঐতিহাসিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’র মোহাম্মদী বেগ চরিত্র। সেই চরিত্রে জাম্বু ছিল উপযুক্ত। সাহিত্যভিত্তিক সিনেমা ‘রাজলক্ষী শ্রীকান্ত’র অর্জুন সিং চরিত্রেও বেশ সফল হয়েছিলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
‘হিরো’ সিনেমায় জেলখানায় কয়েদিদের নেতা হয়ে ভয়ানকভাবে হাজির হন জাম্বু। সবার ভাত কেড়ে নিয়ে একাই খেতে থাকেন। জসিমের সঙ্গে তার যুদ্ধ চলে। ‘রকি’ সিনেমায় বক্সার জসিমের সঙ্গে তার ফাইটিং ছিল উপভোগ্য। জসিমের সঙ্গে ‘মোহাম্মদ আলী’ সিনেমায়ও দারুণ রসায়ন ছিল। ‘রাস্তার রাজা’য় জালিম সিং চরিত্রে গেটআপ ছিল রুদ্রমূর্তির। আরও অনেক সিনেমায় অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
‘আত্মরক্ষা’ সিনেমায় তিনি হাজির হয়েছিলেন পজিটিভ চরিত্রে। এ সিনেমার নায়ক ছিলেন ‘লাভ স্টোরি’র পল্লব। দুলারীর হুকুমের গোলাম ছিল জাম্বু। তাকে বিভিন্ন সমস্যায় ফেলে কাজ করায়। শেষে জাম্বুর হাতেই মৃত্যু হয় দুলারীর। বিচ্ছিন্নভাবে জাম্বুর কিছু গানও আছে কিছু সিনেমায়।
জাম্বু অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে-‘সাগর ভাসা’, ‘এক মুঠো ভাত’, ‘রক্তের দাগ’, ‘শীষনাগ’, ‘সেলিম জাভেদ’, ‘হাসান তারেক’, ‘নির্দোষ’, ‘মোহাম্মদ আলী’, ‘ধর্ম আমার মা’, ‘ডাকাত’, ‘নবাব’, ‘রাস্তা’, ‘রাস্তার রাজা’, ‘রকি’, ‘আত্মরক্ষা’, ‘পরিবার’, ‘সন্ত্রাস’, ‘অতিক্রম’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘উত্থান পতন’, ‘নয়নমণি’, ‘হাবিলদার’, ‘বিজয়’, ‘ঝুমুর’, ‘গোলাবারুদ’, ‘বাঘা বাঘিনী’, ‘সমর’, ‘অপরাজিত নায়ক’, ‘আপোষ’, ‘বিজলী তুফান’, ‘মাটির ফুল’, ‘পালকি’, ‘রুবেল আমার নাম’, ‘আঁচল বন্দী’, ‘টাইগার’, ‘বনের রাজা টারজান’, ‘হিরো’, ‘রাজাবাবু’, ‘নয়া লায়লা নয়া মজনু’, ‘শিকার’, ‘শত্রু ধ্বংস’, ‘আত্মত্যাগ’, ‘ঘাতক’, ‘কালিয়া’, ‘বন্ধু’, ‘সাজা’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘রাখাল রাজা’, ‘নয়নের আলো’, ‘বজ্রপাত’, ‘খুনের বদলা’, ‘অঙ্গার’, ‘বিপ্লব’, ‘যোদ্ধা’, ‘অভিযান’, ‘উসিলা’, ‘নিষ্পাপ’, ‘অমর’, ‘মৃত্যুদণ্ড’, ‘জ্যোতি’, ‘সাথী’, ‘মূর্খ মানব’, ‘দেন মোহর’, ‘প্রেম দিওয়ানা’, ‘চাকর’, ‘ববি’, ‘রাজলক্ষী শ্রীকান্ত’, ‘দায়ী কে’, ‘মিস লংকা’, ‘সাগরিকা’, ‘নির্মম’ ইত্যাদি।
২০০৪ সালের ৩ মে এই শক্তিমান অভিনেতার মৃত্যু হয়। তবে সিনেমাপ্রেমীদের মনে তিনি আজো বেঁচে আছেন তার অভিনয়ের মাধ্যমে।
আরআইজে