নাসা গ্রুপের নজরুলের ৭৮১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, দুদকের মামলা

৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নাসা গ্রুপের কর্ণধার ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ অভিযোগে নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসাধু উপায়ে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ। যেখানে নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিজ নামে ঢাকার গুলশান অ্যাভিনিউ রোডে ১৪ তলা ভবন, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় তিনতলা ভবন, নিউ ডিওএইচএস-এর লেক রোড-১৮ এ দোতলা বাড়ি, নিউ ডিওএইচএস-এর ১৮ নম্বর রোডে চারতলা বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ রয়েছে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ৫৩২ কোটি ৮৭ লাখ।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে তার নামে এক্সিম ব্যাংকের ৬৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার এবং নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৩০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার রয়েছে। সব মিলিয়ে নজরুল ইসলাম মজুমদারের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৫৯৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে নাসা গ্রুপের কর্ণধারের ১ হাজার ১৩২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া গেছে।
এজাহার থেকে আরও জানা যায়, ২০২৩-২৪ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম মজুমদারের দায়-দেনা ২৯৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। দায়-দেনা বাদ দিয়ে তার নিট সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৮৩২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
২০০৫-০৬ করবর্ষে তার নিট সম্পদের মূল্য ছিল ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এছাড়া ২০০৫-০৬ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত নজরুল ইসলাম মজুমদারের গ্রহণযোগ্য মোট আয় ৪২২ কোটি ১১ লাখ টাকা। এ সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ, পারিবারিক খরচসহ তার অন্যান্য ব্যয় ছিল ৩৭০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং বৈধ উৎস থেকে সঞ্চয়ের পরিমাণ ছিল ৫১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
হিসাব অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম মজুমদারের ‘জ্ঞাত আয়ের’ বাইরে অর্জিত সম্পদের মূল্য ৭৮১ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার ৪৫৪ টাকা, যা তিনি নিজের দখলে রেখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
সূত্র জানায়, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের অগস্ট পর্যন্ত এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ ছিলেন। ওই পদে থেকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের’ সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন।
আরএম/এমএসএ