১৭ কোটির সম্পদ : আসামি কর কর্মকর্তা ফয়সাল ও তার স্ত্রীসহ ১৪

১৭ কোটি ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৩১৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অতিরিক্ত কর কমিশনার কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল ও স্ত্রীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক)।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২২ জানুয়ারি) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক গোলাম মাওলা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন- অতিরিক্ত কর কমিশনার কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল, তার স্ত্রী আফসানা জেসমিন, শ্যালক আফতাব আলী, শাশুড়ি মমতাজ বেগম, শ্বশুর আহম্মেদ আলী, ফয়সালের ভাই কাজী খালিদ হাসান, মামা শ্বশুর শেখ নাসির উদ্দিন, খালা শাশুড়ি মাহমুদা হাসান, শ্যালিকা ফারহানা আফরোজ, খালা রওশন আরা খাতুন, ঘনিষ্ঠজন খন্দকার হাফিজুর রহমান, বোন ফারহানা আক্তার, মা কারিমা খাতুন ও ঘনিষ্ঠজন কাজী নূর ই আলম ছিদ্দিকী।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
আসামিদের বিরুদ্ধে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখে এবং অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন ও ছদ্মাবৃত্ত করা তথা মানিলন্ডারিং করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২), ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী ফয়সালের সম্পদের মধ্যে রয়েছে, নিজ নামে ৪টি প্লট, স্ত্রী আফসানা জেসমিনের নামে ২টি প্লট ও তাদের যৌথ নামে একটি প্লট, শাশুড়ি মমতাজ বেগমের নামে একটি প্লট ও শ্বশুর আহম্মেদ আলীর নামে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় বাবদ মোট ৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন।
এ ছাড়া, ফয়সাল নিজ নামে, তার স্ত্রী, শ্যালক, ভাই, শ্বশুর, খালা শাশুড়ির নামে ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে মোট দুই কোটি ৫৫ লাখ টাকা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি তার স্ত্রী, শ্যালক এবং শ্বশুরের নামে মোট এক কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৭১২ টাকা মূ্ল্যের শেয়ার কিনে বিনিয়োগ করেছেন। আর তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নামে অস্থাবর সম্পদ হিসাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বিভিন্ন হিসাবে গচ্ছিত রেখেছেন ৬ কোটি ৯৬ লাখ ৫০ হাজার ৯০৮ টাকা।
স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ১৮ কোটি ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০ টাকা মূল্যের সম্পদের মধ্যে মাত্র ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৬২ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া গেছে দুদকের অনুসন্ধানে।
অতিরিক্ত কর কমিশনার কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল বর্তমানে বগুড়ায় কর্মরত আছেন। গত ২৭ জুন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত থেকে তার নামে-বেনামে থাকা সব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) আদেশ দেওয়া হয়।
এনবিআরের কর্মকর্তা কাজী আবু মাহমুদ ফয়সালের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছর দুদক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। সংস্থাটি প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে গতকাল (মঙ্গলবার) ফয়সাল ও তার আত্মীয়স্বজনের নামে সম্পদের বিবরণী আদালতের কাছে তুলে ধরে।
দুদক আদালতকে বলেছে, ২০০৫ সালে কাজী আবু মাহমুদ ফয়সাল বিসিএস (কর) ক্যাডারে সহকারী কর কমিশনার হিসেবে যোগ দেন। তিনি থাকেন রাজধানীর বেইলি রোডের একটি ফ্ল্যাটে। তার স্থায়ী ঠিকানা খুলনার খান এ সবুর রোডের মুজগলি এলাকায়। ফয়সালের শ্বশুর আহম্মেদ আলী একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। তার শাশুড়ি মমতাজ বেগম পেশায় গৃহিণী। ফয়সাল ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নিজ ও স্ত্রীর নামে রাখার পাশাপাশি স্বজনদের নামেও রেখেছেন। শ্বশুর ও শাশুড়ির নামের ব্যাংক হিসাবে যে অর্থ লেনদেন হয়েছে, তা ফয়সালেরই অপরাধলব্ধ আয়।
আরএম/এমজে