বিজ্ঞাপন

গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে পাইলসের অপারেশনের প্রস্তুতির সময় রোগীর মৃত্যু

গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে পাইলসের অপারেশনের প্রস্তুতির সময় রোগীর মৃত্যু

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে পাইলসের অপারেশনের প্রস্তুতির সময় ইনজেকশন দেওয়ার পর আলমগীর হোসেন নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর ওই গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের দাসকাটি এলাকার জোবেদা ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

আলমগীর হোসেন নূরনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকার মৃত মোবারক আলীর ছেলে।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে নূরনগর ইউনিয়নের দাসকাটি ব্রিজসংলগ্ন জোবেদা ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। সেখানে তিনি পাইলসের অপারেশনও করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শনিবার সকালে আলমগীর হোসেনকে নিয়ে তার স্ত্রী ও জামাতা ওই ক্লিনিকে যান। সেখানে গোলাম মোস্তফা তাকে পাইলসের অপারেশনের পরামর্শ দেন। পরে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আলমগীরকে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়।

আলমগীরের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তার ভাইয়ের শরীরে খিঁচুনি শুরু হয়। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান। এরপর গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা সেখান থেকে সটকে পড়েন।

এ বিষয়ে গ্রাম্য চিকিৎসক গোলাম মোস্তফার বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, ঘটনাটি অন্যদের কাছ থেকে মৌখিকভাবে শুনেছি। তবে রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ জানাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, আলমগীর হোসেনের মৃত্যুর পর ওই গ্রাম্য চিকিৎসক পালিয়ে গেছেন বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ইব্রাহিম খলিল/এমএসএ 

বিজ্ঞাপন