পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারেন না তারা

ঈদের নামাজ শেষে ভিডিও কলে দেড় বছরের মেয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন বরকত ট্রাভেলসের হেলপার আব্দুল আজিজ শান্ত। ভিডিও কলে কথা বলার সময় মেয়েকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। বলছিলেন, দ্রুতই বাড়িতে ফিরে তোমার সঙ্গে ঈদ করব।
সোমবার (৩১ মার্চ) লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলার ঈদের জামাত শেষ করে গাড়ি পরিষ্কার করছিলেন আব্দুল আজিজ শান্ত। এ সময় তার সঙ্গে কথা হলে বাসের হেলপার ও চালকদের জীবনের চিত্র তুলে ধরেন। রাজধানী ঢাকার সাভারের সখিপুরে তার গ্রামের বাড়ি।
বরকত ট্রাভেলসের হেলপার আব্দুল আজিজ শান্ত বলেন, অভাবের তাড়নায় এই পেশায় এসেছি। প্রতি ঈদে ৪০ জন যাত্রীকে নিয়ে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেই। কিন্তু আমরা বাড়িতে কখনো ঈদ করতে পারি না। সব সময় মাথায় চিন্তা আসে যে ৪০ জন যাত্রী আছে, তাদের সুস্থভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হবে। তখন হাজার কষ্ট হলেও তাদের পৌঁছে দিতে পেরে শান্তি লাগে। এতগুলো মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবে- এটি ভেবেই রাস্তায় থাকলেও আমাদের ঈদ পালন হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের জন্য অনেক বড় বেদনাদায়ক বিষয়। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় সন্তান যখন বাবা বলে ডাকে, তখন তার পাশে এই খুশির দিনে থাকতে পারি না। এজন্য পরিবারের অনেক কথা শুনতে হয়।
তিনি বলেন, মটর মালিক সমিতির নেতারা আমাদেরকে নিয়ে কখনোই ভাবেন না। যদি আমাদের নিয়ে কখনো ভাবতেন তাহলে আমরা এই কষ্টে দিন কাটাতাম না।
লাব্বাইক এক্সপ্রেসের হেলপার নুর ইসলাম। যার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রাম্বাপুরের মিশন পাড়ায়। তার পরিবারে এক ছেলে, এক মেয়ে রয়েছে। ঈদের আগে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রীদের চাপের কারণে গাড়ি নিয়ে লালমনিরহাটের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছেন। রাস্তায় যানজটের কারণে ফিরে যেতে পারেননি। অবশেষে লালমনিরহাটে গাড়ি রেখে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করেছেন। যদিও একটি হোটেলে খাবার খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন।
নুর ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে পরিবারকে জানিয়েছিলাম। এবারের ঈদ বাসায় গিয়ে করব। কিন্তু এতগুলো যাত্রীর চাপে মালিকপক্ষ গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়তে বলেছেন। তাই যাত্রীদের কথা ভেবেই রওনা করেছিলাম লালমনিরহাটে। কখনোই ভাবতে পারিনি লালমনিরহাট থেকে ফিরে আর যেতে পারব না। রাস্তায় কোনোভাবে ঈদ পালন করেছি।
তিনি বলেন, মটর শ্রমিকদের কথা কখনো কেউ ভাবে না। তারা এত কষ্ট করে যাত্রীদের ঈদ পালনের জন্য চেষ্টা করে যান। সরকারও এ নিয়ে কখনোই চিন্তা করে না। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান অন্তত মোটর শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা করা হোক। তাহলে অনিশ্চয়তার জীবন অন্তত শান্তিতে থাকবে।
নিয়াজ আহমেদ সিপন/আরএআর