রাঙামাটি কারাগারে ঈদের আমেজ, খুশি বন্দিরা

একমাস সিয়াম সাধনার পর আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে এই ঈদের আনন্দ কিছুটা ভিন্ন কারাগারে বন্দিদের জন্য। কারাবন্দিরা কারাগারের মধ্যেই আদায় করেন ঈদের নামাজ। সকালে ঈদের নামাজ শেষে একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলির মাধ্যমে চার দেয়ালের মাঝেও নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। এক সঙ্গে বসে খান ঈদের সেমাই।
বিজ্ঞাপন
ঈদের দিন পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ থাকে না কারাবন্দিদের। তবে তাদের জন্যও এদিন বিশেষ আয়োজন করেছে রাঙামাটি কারা কর্তৃপক্ষ। স্বজন থেকে দূরে থাকা এসব কারাবন্দিরা বিশেষ এই দিনে যাতে নিজেদের মধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারেন সেজন্য এদিন ছিল ঈদের বিশেষ নামাজ, উন্নতমানের খাবার ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ।
পরিবারহীন এইসব কারাবন্দিদের জন্য দুপুর ও রাতে গরুর মাংস, খাসির মাংস, মাছ, পোলাও, মুরগির রোস্টসহ আরও বিভিন্ন ধরনের খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের এই বিশেষ দিনে যাতে নিজেরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েও আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য রাঙামাটি কারা কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজন। জেল কর্তৃপক্ষও বন্দিদের সঙ্গে কোলাকুলি আর কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। এতে খুশি কারাবন্দিরাও।
বিজ্ঞাপন
কারাবন্দি খোকন মিয়া বলেন, আজ ঈদের দিন কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য ভালো খাবার দাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকালে আমাদের সেমাই দেওয়া হয়েছে। দুপুরেও মুরগি ও গরুর মাংস পোলাওসহ আরও বেশ কিছু ভালো খাবার দেওয়া হয়েছে। এমন আয়োজনে আমরা খুব খুশি।
বিজ্ঞাপন
আরেক বন্দি মো. ইলিয়াছ বলেন, আমরা সকালে ঈদের জামাতের পর সেমাই ও মুড়ি দিয়ে নাস্তা করেছি, দুপুরের খাবারও বেশ ভালো দিয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষ আমাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিয়েছেন তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
কারা কর্তৃপক্ষের এই আয়োজন এইখানেই শেষ নয়। কারাবন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে এদিন দেখার করার সুযোগ দিয়েছেন। যারা দেখা করতে এসেছেন তাদেরকে ফুল ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করে কারা কর্তৃপক্ষ। আনন্দের এই দিনে সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্বভাব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছড়িয়ে পড়ে সেজন্য কারা কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজন। আর এমন আয়োজনে খুশি স্বজনরাও।
বন্দির স্বজন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ আমাদের মিষ্টি ও ফুল দিয়ে বরণ করেছেন। এটি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাছাড়া আমাদের যেসব স্বজনরা ভেতরে আছেন, তাদের জন্যও আজ বিশেষ আয়োজন হয়েছে বলে জেনেছি। আমরা এই আয়োজনে খুব খুশি। মহান আল্লাহ ও কারা কর্তৃপক্ষের কাছে শুকরিয়া জানাচ্ছি।
স্বজনহীন কারাবন্দিদের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দিতে কারা কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজন বলে জানিয়ে জেল সুপার মো. দিদারুল আলম বলেন,
আমাদের কারা মহা-পরিদর্শক ও অতিরিক্ত কারা মহা-পরিদর্শক মহোদয় কারাগারের দর্শনার্থীদের জন্য নতুন কিছু করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বন্দিদের মানবিক দৃষ্টিকোণগুলো বিবেচনা করে তারা যাতে আজকের দিনে তাদের পরিবার-পরিজনের কিছুটা সান্নিধ্য লাভ করতে পারে তাই তাদের নিয়ে আমরা এই আয়োজন করেছি। প্রত্যেক দর্শনার্থীদের আমরা ফুল ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করেছি, পাশাপাশি বন্দিদের জন্যও আজ বিশেষ আয়োজন করেছি।
বর্তমানে রাঙামাটি জেলা কারাগারে ১৯০ জন কারাবন্দি রয়েছে।
মিশু মল্লিক/আরকে