দর্শনার্থীদের অপেক্ষায় পর্যটন নগরী কুয়াকাটা

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত পর্যটন নগরী কুয়াকাটা। পর্যটকদের সেবা দিতে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে ১৬টি পেশার ব্যবসায়ীরা। এবারের লম্বা ছুটিকে সামনে রেখে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় শুরু হয়েছিল অগ্রীম হোটেল বুকিং। শুধু হোটেলই নয়, নিজেদের সার্বিকভাবে প্রস্তুতি করতে ব্যস্ত সময় পার করেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও।
বিজ্ঞাপন
হোটেল কতৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় প্রথম শ্রেণির হোটেলগুলোর ৫০-৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর ৩০-৪০ শতাংশ কক্ষ অগ্রীম হয়ে যায়। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা এবং পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় স্টেক হোল্ডার, ১৬টি পেশার প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে পর্যটকদের বরণে হোটেল-মোটেলগুলো সাজে রঙ্গিন সাজে। সৌন্দর্য মন্ডিত করা হয় যাতায়াতের পথগুলো।
বিজ্ঞাপন
আজ সোমবার (৩১ মার্চ) মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ। এবার ২৯ মার্চ (শনিবার) থেকে শুরু হচ্ছে ঈদুল ফিতরের ছুটি, টানা পাঁচ দিনের ছুটি (২৯, ৩০, ৩১ মার্চ এবং ১ ও ২ এপ্রিল) থাকার কথা ছিল ২ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর মাঝখানে একদিন (৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার) অফিস খোলা রাখার কথা ছিল। এরপর আবার ৪ ও ৫ এপ্রিল (শুক্র ও শনিবার) দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি। সেই হিসাবে ২৬ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত ১১ দিনের মধ্যে মাত্র দুই দিন অফিস খোলা ছিল। তবে ‘নির্ধারিত ছুটি বিধিমালা, ১৯৫৯’ অনুযায়ী, দুটি ছুটির মাঝখানে নৈমিত্তিক ছুটি নেওয়ার নিয়ম নেই। তাই মাঝখানের কর্মদিবসগুলোতে ছুটি নিয়ে কেউ চাইলেই টানা ছুটি নিতে পারবেন না। মাঝখানে ছুটি নিলে টানা ছুটি হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে ২৮ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯ দিন ছুটির সুযোগ করে দিতে ৩ এপ্রিলও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সেক্ষেত্রে এবার সবমিলিয়ে টানা ৯ দিন ছুটি ভোগ করতে পারবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, পুরো রমজান মাসজুড়ে পর্যটক শূন্য ছিল কুয়াকাটা সেই সুযোগে হোটেল-মোটেলগুলো পরিপাটি করে তাদের প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন। ঈদের ছুটি থেকে টানা ছুটিতে লাখো পর্যটকদের আগমন ঘটবে কুয়াকাটায় এমনটাই আশাবাদী আমরা। সৈকতে দীর্ঘদিন পর্যটক কম থাকায় পুরো সৈকতজুড়ে তৈরি হয়েছে ভিন্নতা। শীত মৌসুমের শেষে বর্ষার শুরুতে সৈকতে উঁচু ডেউ, জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, বর্ষার একটি আমেজ উপভোগে অনেকেই ছুটে আসবেন কুয়াকাটা এমনটা আশা তার।
সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলাসের এজিএম আল-আমিন খান উজ্জ্বল বলেন, আমাদের রিসোর্টে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত বেশ বুকিংয়ের ফোন আসছে। ইতোমধ্যে ৬০ শতাংশ অগ্রীম বুকড হয় গেছে। আশা করছি বাকি দিনগুলোতে আমরা পুরোপুরি বুকিং পাবো। পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে ইতোমধ্যে আমরা সুইমিং, হোটেলের বাড়তি সৌন্দর্য বর্ধনসহ নানা আয়োজন হাতে রেখেছি।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড এসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, পর্যটকদের আগাম সম্ভাবনাকে ঘিরে আমরাও প্রস্তুতি নিয়েছি যাতে পর্যটকদের পুরোপুরি সেবা ও বিনোদন দিতে পারি। ইতোমধ্যে আমাদের কাছে অনেকগুলো বুকিং আসছে, প্রতিটি উৎসবের বন্ধকে ঘিরে আমরা প্রস্তুতি রাখি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য।
কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, ঈদকে ঘিরে বাড়তি পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সেরেছে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, নিয়মিত নিরাপত্তার পাশাপাশি অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, স্কাউট থেকে বেশ কয়েকটি টিমে ভাগ করে স্বেচ্ছাসেবক ও সৈকতে রেস্কিউ টিমের সদস্য কাজ করবে। যাতে বাড়তি ভাড়া বা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার পর্যটকরা না হন।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ শাখাওয়াত হোসেন তপু জানান, ঈদের বন্ধে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লেম্বুরবন থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে- ছিটিয়ে থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম। জল-স্থল পথে সার্বক্ষণিক আমরা পর্যটকদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি।
এসএম আলমাস/এএমকে