অপহরণের অভিযোগে বরিশালে বিএনপি নেতাসহ তিনজন কারাগারে

বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বালুমহাল ইজারা দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে সেনা সদস্যকে অপহরণের পর আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
সোমবার, নগরীর লঞ্চঘাট এলাকার বিআইডব্লিউটিসি ভবনে রিচমার্ট হোটেলে অপহৃতকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায় চাঁদপুরের মতলব থানার বাসিন্দা আব্দুল মতিন কাজী বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং ৮ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় বিআইডব্লিউটিসি ভবনের রিচমার্ট হোটেল থেকে আটক তিনজনকে মঙ্গলবার থানায় হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নূর হোসেন সুজন (৩৫), হিজলা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ইমরান খন্দকার (৩৫), এবং হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দেওয়ান মো. মনির হোসেন (৪২)।
মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক প্রকৌশলী মাহফুজুল আলম মিঠু, বরিশাল জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাকসুদুর রহমান (মাসুদ রাঢ়ি), মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মেহেদি হাসান রুবেল, মহানগর যুবদল নেতা বেলায়েত হোসেন, গণপাড়ার বাসিন্দা মো. জাহিদ, মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা বেগম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জু, এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নিজামুর রহমান নিজাম।
মামলার সাক্ষী আব্দুল বাসেত জানিয়েছেন, বালুমহাল ইজারা নিতে সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে দরপত্র জমা দিতে তারা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে যান। তখন আসামিরা বাধা দেন। জোর করে দরপত্র জমা দেওয়ার পর তারা সন্ত্রাসী আচরণ করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে আসামিরা মতিনের ভাতিজা সেনা সদস্য জাফরকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে অপহরণ করে লঞ্চঘাট এলাকায় রিচমার্ট হোটেলের ৩১০ নম্বর কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল পরিচয় দিলেও তাকে মারধর করা হয় এবং স্বর্ণালংকার, আইফোন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানানো হলে, তারা রিচমার্ট হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করে।
এছাড়া, মামলার অন্যতম আসামি মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা বেগম অভিযোগ করেছেন, মেঘনার বালুমহাল ইজারা নিতে ৩৩টি দরপত্র বিক্রি হয়েছিল, তবে বাধার কারণে তারা দরপত্র জমা দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, মতিনরা দুটি দরপত্র জমা দিয়ে বালুমহালটি দখল করে নিয়েছে।
দরপত্র ক্রেতা মফিজুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, তিনি সাড়ে ৩ কোটি টাকার পে-অর্ডার কেটেও দরপত্র জমা দিতে পারেননি। মেঘনার বালুমহাল পুনঃদরপত্রের জন্য আবেদন করবেন তিনি।
সৈয়দ মেহেদী হাসান/এমএসএ