কবিরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নোয়াখালীর কবিরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক রায়হান এবং তার স্ত্রী সামিরা শারমিনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখল করার অপরাধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকালে দুদক নোয়াখালীর উপসহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালে প্রথমবার কবিরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন জহিরুল হক রায়হান। এরপর আরও দুই মেয়াদে তিনি মেয়র পদে নির্বাচিত হন। গত ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত তিনি মেয়র পদে বহাল ছিলেন। মেয়র পদে থাকাকালীন রায়হান অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অনেক সম্পদ অর্জন করেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০১৯ সালে জহিরুল হক রায়হান ও তার স্ত্রী সামিরা শারমিন তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। ওই বিবরণীতে রায়হানের স্ত্রী একজন গৃহিণী এবং তার আয়ের কোনো বৈধ উৎস ও ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যায়নি।
কিন্তু তার নামে জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম আলীপুর মৌজায় জমিসহ একটি চারতলা বাড়ি পাওয়া গেছে। সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে ওই বাড়ির নির্মাণে ব্যয় পাওয়া গেছে ৪৮ লাখ ৩৩ হাজার ৬০০ টাকা, যার কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। সামিরা শারমিন ও জহিরুল হক রায়হান পরস্পর যোগসাজশে ওই স্থাবর সম্পদ অর্জন-পূর্বক ভোগদখল করেছেন মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক প্রাথমিক অনুসন্ধানকালে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারা; তৎসহ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দুদক নোয়াখালীর উপপরিচালক মো. ফারুক আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, মেয়র পদে থাকাকালীন রায়হান অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অনেক সম্পদ অর্জন করেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মামলা দায়ের করে। মামলাটি তদন্তকালে ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ও অন্য কোনো তথ্য পেলে তাও আমলে আনা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন মামলাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
হাসিব আল আমিন/এমজেইউ