প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মা-বাবা হারানো দিপুকে সহায়তা শুরু করল জামায়াত

২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর— মহালয়া উৎসবে অংশ নিতে বোদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ওইদিন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাড়েয়ার আউলিয়া ঘাটে করতোয়া নদীতে নৌকায় করে মা-বাবার সাথে যাচ্ছিল তিন বছর বয়সী দিপুও। কিন্তু হঠাৎ করে তাদের নৌকাটি ডুবে। সেদিনের সেই নৌকাডুবিতে প্রাণ যায় ৭২ জনের। সেদিন ভাগ্যক্রমে দিপু বেঁচে গেলেও জীবিত ফেরেনি তার বাবা-মা। ঘাট থেকে একদিন মা মা রূপালী রানী ও তার প্রায় দেড় মাস পর বাবা ভূপেন্দ্রনাথ রায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে এক জনসভায় বর্তমান ৫ বছর বয়সী দিপুর লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানান, দিপুর ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত তার খরচ বাবদ পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে দেবীগঞ্জের শালডাঙা ইউনিয়নের ছত্রশিকারপুর হাতিডুবা গ্রামের দিপুর বাড়িতে গিয়ে প্রথম মাসের টাকা তুলে দিয়েছেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইকবাল হোসাইন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াত নেতা সফিউল্লাহ সুফি, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পঞ্চগড় জেলা সভাপতি আবুল বাশার বসুনিয়া, বোদা উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল বাসেত, দেবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম, সেক্রেটারি বেলাল হোসেন। এছাড়া দিপুর বড়ভাই দিপন রায় ও পরিতোষও সেখানে ছিলেন। বর্তমানে দিপু তাদের অধীনেই বড় হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
২০২২ সালের সেই ভয়াবহ নৌকা ডুবি ঘটনার তিনদিন পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ছুটে গিয়েছিলেন জামায়াতের আমির ডা.শফিকুর রহমান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাত করে সমবেদনা জ্ঞাপনসহ প্রত্যেক নিহতের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল আবারও পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাত করে আরও ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করেন। সেদিন এই ছোট্ট দিপুকে কোলে নিয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন জামায়াত আমীর। কিন্তু তৎকালীন সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং তার স্ত্রী দিপুর দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে তারা প্রতিশ্রতি রক্ষা করেনি বলে জানান জামায়াত আমির।
তিনি ২৬ ফেব্রুয়ারির জনসভায় বলেন, “(তারা দায়িত্ব নিয়েছে জেনে) আমি খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু আজকে দিপুর ভাই পরিতোষকে জিজ্ঞেস করে জেনেছি তারা মাঝে মধ্যে জামকাপড় ছাড়া কোনো অর্থনৈতিক সহযোগিতা করেননি। অর্থ ছাড়া দিপু খাবে কি? তার পড়ালেখার কি হবে? আলহামদুলিল্লাহ এই দিপু যতদিন প্রাপ্ত বয়স্ক না হবে ততদিন তার লেখাপড়া চলবে। আমরা এই পরিবারের সাথে প্রতিমাসে এসে হাজির হব।
এসকে দোয়েল/এমটিআই