মগবাজারে বিস্ফোরণ : ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি বিএনপির
রাজধানীর মগবাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহত হওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রোববার (২৭ জুন) রাতে এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি আমি গভীর সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি। বর্তমান সরকারের শাসনামলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিস্ফোরণে মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও সরকার ও সিটি করপোরেশন এসবের পুনরাবৃত্তিরোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বরং সবসময় উদাসীন থেকেছে।
বিজ্ঞাপন
অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সব তদন্তই ঢাকাবাসীকে হতাশ করেছে বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এসব মর্মস্পর্শী ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের উদাসীনতায় একের পর এক দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। মানুষ সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে। জনগণের জান-মাল রক্ষা করতে সরকারের এই ব্যর্থতা ও উদাসীনতা জনজীবনকে চরম বিপন্ন ও দিশেহারা করে তুলেছে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকারের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার অভাবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থা এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। এ ধরনের বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রোধে সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
মগবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণ উন্মোচনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।
উল্লেখ্য, রোববার (২৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মগবাজার ওয়্যারলেস গেট এলাকায় বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণটি কীভাবে ঘটল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি।
এ বিস্ফোরণের ঘটনায় সাতজন নিহত ও অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট এবং পাশের ঢাকা কমিউনিটি ক্লিনিক ও আদ্ব-দীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেবল ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগেই নেওয়া হয়েছে ৩৯ জনকে।
এএইচআর/ওএফ