১৮৪ নতুন বই, শিশুপ্রহরে জমজমাট ছুটির দিনের বইমেলা
বইমেলা শুরুর পর আজ ছিল প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন৷ তাই আগেভাগেই শুরু হয় মেলার কার্যক্রম। পাঠকদের ক্ষুধা মেটাতে দিনভর প্রকাশিত হয় ১৮৪টি নতুন বই। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় শিশুপ্রহরের।
একইসঙ্গে শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়৷ সব মিলিয়ে ছুটির দিনে পাঠক ও দর্শনার্থীরা ব্যাপক উপস্থিতি আর নানান আয়োজনে জমজমাট ছিল বইমেলার পুরো চত্বর।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন
সংশ্লিষ্টরা জানান, অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে আটটায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সাত্তার। এতে ক-শাখায় ৩০৩, খ-শাখায় ৩২৫ এবং গ—শাখায় ১২২ জন সর্বমোট ৭৫০জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।
এরপর সকাল দশটায় টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ক-শাখায় ১৪১ জন, খ-শাখায় ২০৭ জন এবং গ—শাখায় ৮৫ জন সর্বমোট ৪৩৩ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।
বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. তারিক মনজুর, অধ্যাপক শায়লা আহমেদ এবং বাচিকশিল্পী শফিকুর রহমান বাহার।
বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘সাংস্কৃতিক ইতিহাসের দর্পণে গোলাম মুর্শিদ পাঠ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সামজীর আহমেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন স্বরোচিষ সরকার এবং গাজী মো. মাহবুব মুর্শিদ। সভাপতিত্ব করেন মোরশেদ শফিউল হাসান।
অনুষ্ঠানে প্রাবন্ধিক বলেন, গোলাম মুরশিদের ইতিহাসভিত্তিক আলোচনা বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাস চর্চায় পথিকৃৎ সমতুল্য। বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ইতিহাস প্রাতিষ্ঠানিকতা পেলে গোলাম মুরশিদ হবেন তার পুরোধা ব্যক্তি। তাঁর ইতিহাস চর্চার প্রধানতম বৈশিষ্ট্যগুলো হলো উপেক্ষিতের প্রতি নজর, আন্তঃশৃঙ্খলাধর্মীতা এবং ব্যক্তিকে ইতিহাসের কর্তাসত্তায় অধিষ্ঠিত করা।
বাংলাদেশে প্রথাগত ইতিহাস চর্চায় তাঁর নাম যতটা উজ্জ্বল, এর চেয়ে সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তিনি দারুণ শক্তিমান। বাংলা সাহিত্যের প্রত্যক্ষ ইতিহাস না লিখলেও তাঁর ইতিহাস-চর্চা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।
আলোচকরা বলেন, গোলাম মুরশিদের গবেষণা ও লেখালেখির জগৎ ছিল বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময়। তিনি ছিলেন গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এবং প্রজ্ঞাময় একজন গবেষক। অত্যন্ত নির্মোহভাবে তিনি ইতিহাসকে দেখার চেষ্টা করেছেন। সাহিত্য বিশ্লেষণ করে ইতিহাস ও জীবনী অনুসন্ধানে আত্মনিয়োগ করেছিলেন গোলাম মুরশিদ। সমাজ-ভাষাবিজ্ঞানের ইতিহাস ও রাজনৈতিক ইতিহাস চর্চা ছাড়াও অভিধান চর্চার দিক থেকেও গোলাম মুরশিদ উজ্জ্বলতম নাম হয়ে থাকবেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন, বৈচিত্র্যসন্ধানী, গভীরস্পর্শী ও পরিশ্রমী গবেষক গোলাম মুরশিদ বাংলাদেশের গবেষণা জগতে শ্রেষ্ঠ গবেষকদের একজন। বিদ্যাচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের ও ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য বাতিঘর হয়ে থাকবেন।
আজ জুলাই এর গল্প মঞ্চে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর শহিদ স্মরণে অতিথি হিসেবে কথা বলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। সঞ্চালানায় ছিলেন, লেখক ও সাংবাদিক জুবায়ের ইবনে কামাল।
এছাড়া লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন- কবি ও কথাসাহিত্যিক ইকতিজা আহসান ও কবি মৃদুল মাহবুব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন- কবি মোসা. ইসমত আরা এবং কবি মুহাম্মদ ইসমাইল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী আরিফুল হাসান এবং আফরোজা পারভীন।
আজ ছিল মো. ফরিদুল হকের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন মাটির সুর সংগীত পরিষদের পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী জি এম জাকির হোসেন, তানজিনা করিম স্বরলিপি, মাকসুদুর রহমান মোহিত খান, চম্পা বণিক, মুর্শিদা নাহিদ এবং শাহনাজ রহমান স্বীকৃতি।
শনিবার দেরিতে শুরু হবে বইমেলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কারণে আগামীকাল শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার পরিবর্তে অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত। আগামীকাল মেলায় থাকবে না পূর্বঘোষিত শিশুপ্রহর। এছাড়া, অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে আগামীকাল শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ : মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আবদুস সেলিম এবং মোহাম্মদ হারুন রশিদ। সভাপতিত্ব করবেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।
আরএইচটি/এমএসএ