খুলনার ইউপি চেয়ারম্যান হত্যায় মামলা হয়নি, আটকও নেই কেউ
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটকও করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে গতকাল দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নগরীর নিরালা এলাকায় রবির বাসায়। সেখানে নিহতের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে মরদেহ ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দলের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আসরের নামাজের পর মাওলানা ভাষানী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
নিহতের ভাগ্নে সাইফুর রহমান রাজু ও মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিহত রবি ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালে শরাফপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শেষ ২ বার নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। তিনি এলাকায় অনেক জনপ্রিয় ছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে অন্য কেউ সহজে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারবেন না, সে কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ বলেন, নিহত রবি সদালাপী ও খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। রবির এই জনপ্রিয়তাই তার জীবনে কাল হয়েছে। ৩ বার নির্বাচনে তাকে কেউ হারাতে পারেনি।
খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান বলেন, নিহত রবির সঙ্গে ইউপি নির্বাচন ও ব্যবসা নিয়ে কারও সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডুমুরিয়া থানা পুলিশ, ডিবি, র্যাব, সিআইডি ও পিবিআই সবাই আলাদা আলাদাভাবে ঘটনার তদন্ত করছেন। তারা হত্যার কারণ উদঘাটন এবং হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
নিহত রবি ডুমুরিয়ার বৃত্তি ভুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত হাবিবার রহমান শেখের ছেলে। তার স্ত্রী শায়লা ইরিন খুলনায় আঞ্চলিক সমাজসেবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রভাষক। তার বড় ছেলে তালহা জুবায়ের নগরীর নিরালা এলাকার এসওএস স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র এবং ছোট ছেলে ত্বকীর বয়স ২ বছর।
আরও পড়ুন
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কর্মী সভায় যোগ দেন। ওই সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তিনি মোটরসাইকেলে করে একা নগরীর নিরালা এলাকার বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গুটুদিয়া এলাকায় পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ রবিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রবি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ছিলেন।
মোহাম্মদ মিলন/এনএফ